Private School – বেসরকারি স্কুলের দাদাগিরি বন্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নিয়ম।
বিগত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি স্কুল তথা Private School এর ফি বৃদ্ধি সহ একাধিক কারনে অভিযোগ আসছিলো। আর এর কারনে একাধিক বার হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। আর আদালতের নির্দেশে এবার কড়া গাইডলাইন তৈরি করলো রাজ্য সরকার তথা পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এই নতুন নিয়মে কি কি প্রভাবিত হবে এক নজরে দেখে নিন।
Private School Rules and Fees Regulations:
অবিভাবক মহলের অভিযোগ, কার্যত যা খুশি করে চলেছে রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলো। পড়ুয়াদের কাছ থেকে লাগামছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে। স্কুলগুলির খুশি মতন ফি বৃদ্ধি (Private School Unlimited Fee Structure) করা হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
সংক্রমণ চলাকালীন রাজ্যজুড়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাম ছাড়া ফি বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়। রাজ্য জুড়ে বেসরকারি স্কুলগুলোর এই যাচ্ছেতাই মনোভাব নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্য সরকার কে গাইডলাইন করার নির্দেশ দেন। আর আজ রাজ্য সরকার সেই গাইডলাইন প্রকাশ করলো।
আদালতের প্রশ্ন
এর আগেও আদালত শিক্ষা ব্যবস্থাকে পণ্য করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেসরকারি স্কুলগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি নিয়ে দায়ের করা মামলাতে বিচারপতি বসু বলেন, বেসরকারি স্কুলগুলির ফি বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনো নজরদারি নেই কেন? রাজ্যের তরফে কোনো গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে কি? বেসরকারি স্কুলগুলি কতটা ফি বাড়াবে, তা দেখার জন্য কোনো গভর্নিং বডি রয়েছে কি? ফি স্ট্রাকচার কী হবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের গাইডলাইন কোথায়? বেসরকারি স্কুলগুলির পছন্দ হোক বা নাই হোক, রাজ্য সরকারকে এই গাইডলাইন (Private School Guidelines) তৈরি করতেই হবে।
রাজ্য সরকারের গাইডলাইন
- প্রাইভেট স্কুলের জন্য শিক্ষা কমিশন।
- শিক্ষা কমিশনের শীর্ষে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
- রাজ্যের সমস্ত প্রাইভেট স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক।
- কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিতেই আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা আছে।
- তিনটি ভাষা থাকবে, বাংলা ইংরাজি ও অন্য একটি ভাষা।
- স্কুলের মর্জিমতো ফি বৃদ্ধি করতে পারবেনা স্কুল।
- এর আগের অভিযোগ গুলোর ও নিস্পত্তি করবে কমিশন।
কি কারনে এই সিদ্ধান্ত?
লকডাউন চলাকালীন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার পরও বিদ্যুৎ বিল সহ একাধিক কারনে ফি নেওয়া হয়, এমন কি যারা ফি দিতে পারেন নি, তাদের রেজাল্ট আটকে দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। গত সপ্তাহে এই মামলায় বিচারপতি বসু রাজ্য সরকার কে শিক্ষা কমিশন করার নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষা ক্ষেত্র যেন ব্যবসা ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহৃত না হয়, সেটা পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। আর সেই নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার আজ শিক্ষা কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রীসভায় তোলেন, এবং এই কমিশন যাতে নির্দিষ্ট আইন মেনে চলে, তাই এই কমিশনের শীর্ষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কে রাখ্র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, রাজ্যের ছুটির লিস্টে বড়সড় রদবদল, নবান্নর বড় সিদ্ধান্ত।
এর আগে Private School এর লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি ও ড্রেস, বই খাতা, ব্যাগ প্রভৃতিতে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। কার্যত প্রাইভেট স্কুল মানে বই খাতা, ড্রেস, জুতো, শিক্ষা সামগ্রী বিক্রয়ের স্থান বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর এই সমস্ত বিষয়ে কড়া নিয়ন্ত্রন, এবং মূলত লাগামছাড়া স্কুল ফি নিয়ন্ত্রনে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ ও অযোগ্যদের বাতিল সহ একাধিক বিষয় রাখা হবে। এর ফলে শিক্ষার মান আরও ভালো হয়, নাকি বিরূপ প্রভাব পড়ে, এবার এটাই দেখার।
আরও পড়ুন, ATM থেকে টাকা তোলার নিয়ম বদল, ফাইন এড়াতে জেনে নিন।