পশ্চিমবঙ্গে SSC শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের নতুন নির্দেশ। শেষ রক্ষা হলো না।

এখন চারপাশে কান পাতলেই একটাই খবর শোনা যায় এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি তথা West Bengal SSC Scam. বর্তমান শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে খবরটির শিরোনাম সবার উপরে। হাজার হাজার চাকরিরতাদের জীবন জড়িয়ে রয়েছে মঙ্গলবার এর এই রায়ে।

Supreme Court SSC Verdict on Teacher Recruitment Scam

SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দুর্নীতিগ্রস্ততার নিরিখে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে এক লোমায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং গ্রুপ সি-ডি কর্মীরা।

সম্পূর্ণ প্রাণীর বাতিল করার কারণ ছিল SSC যোগ্য ও অযোগ্য কারা সেই ব্যাপারে কোন মত প্রকাশ করতে পারেননি। এরপরে সোমবার এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সময়ের কারণে তা পিছিয়ে যায়। মঙ্গলবার সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনে সুপ্রিম কোর্ট।

এদিন রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আবার পরবর্তী শুনানি ১৬ জুলাই। আগামী জুলাই মাসে এই মামলার বিস্তারিত শুনানি হতে চলেছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করেন, কেন সুপারনিউমেরিক পোস্ট তৈরি করতে চাওয়া হয়েছিল? এর উত্তরে SSC তথা রাজ্য সরকার জানায় তাদের কোনো খারাপ অভিসন্ধি ছিল না।
গত শুনানিতে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

স্বভাবতই কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরে চাকরিহারা শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং ন্যায় বিচারের আশা করছিলেন। তাদের মূল বক্তব্য ছিল কিছু অসৎ পথ অবলম্বনকারীদের জন্য যাতে যোগ্য প্রার্থীদের ভুগতে না হয় সেই দিকটি ভেবে দেখবেন সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চয়ই।

ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এই সংক্ষিপ্ত রায়ের পর খুশির হাওয়া চাকরিহারা শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে। তাদের কথা অনুযায়ী আপাতত এই সংক্ষিপ্ত রায়ে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এরপরে ১৬ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’

এদিন সুপ্রিম কোর্টের সংক্ষিপ্ত রায়ের পর একটি টুইট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এবং রাজ্য সরকারকে অস্থির করার জন্য BJP-র যে চেষ্টা তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সত্যের জয় হয়েছে। আমরা সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জনগণের পাশে দাঁড়াব। জয় বাংলা।’

এদিন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘চাকরি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায় ইতিবাচক। যোগ্য অযোগ্য নির্বিশেষে চাকরি খাওয়ার যে পৈশাচিক রাজনীতি চলছিল, তা আপাতত স্থগিত থাকল। CBI কে ইচ্ছেমত অপপ্রয়োগের যে চেষ্টা চলছিল, তাও আপাতত স্থগিতই। যারা যোগ্য, তাদের চাকরি সুরক্ষিত থাকুক। যারা অন্যায় করেছে, তারা চিহ্নিত হোক।’

অবৈধ শিক্ষক কত জন?

বলা যায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরে রাজ্যের ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের জীবনে যে কালো অন্ধকার নেমে এসেছিল তার কালো ছায়া অনেকটাই সরে গিয়েছে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য। এসএসসি দেওয়া তথ্যে ৮ হাজার ৩২৪ জন অবৈধ। এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্ট ও তাতে সম্মতি দিয়ে ঘোষনা করেছেন ৮ হাজার ৩২৪ জনের নিয়োগ হচ্ছে অবৈধ। তাই হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে ১৭ থেকে ১৮ হাজার কার্যত যোগ্য শিক্ষক ভুক্তভোগী।

এখন এই যোগ্য শিক্ষকরা তাকিয়ে রয়েছে পরিবর্তী শুনানির দিকে অর্থাৎ ১৬ ই জুনের দিকে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে অনেকটাই চিন্তামুক্ত যোগ্য চাকরি প্রার্থীরা।
Written by Shampa Debnath.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button