SCSS Scheme – পোস্ট অফিস গ্রাহকদের দারুন সুখবর। এই স্কিমে একবার টাকা রেখে জীবনভর আনন্দে কাটান।

সাধারন মানুষের জন্য আবারও একটি দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে SCSS Scheme. সাধারণত টাকা পয়সা জমা রাখার ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের জুড়ি মেলা ভার। কারণ পোস্ট অফিসে টাকার ওপর অতিরিক্ত হারে সুদ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় সুবিধা পাওয়া যায়। এই জন্য দেশের অনেক মানুষ অর্থবিনিয়োগের ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসকেই অগ্ৰাধিকার দেন। আর এই সকল বিনিয়োগকারীদের জন্যই আজ রয়েছে একটি সুখবর। পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস অ্যাকাউন্ট স্কিমের সঙ্গে আশা করি সকলেই পরিচিত। এতেই সম্প্রতি বিরাট পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার।

Post Office SCSS Scheme in 2023.

চলতি মাসের ৭ তারিখ কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফ থেকে SCSS Scheme এর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়মে বদল আনা হয়েছে। এতদিন তো অনেক বিনিয়োগকারীরাই এখানে টাকা পয়সা গচ্ছিত রাখতেন। যথেষ্ট জনপ্রিয় এই স্কিম। তবে সাম্প্রতিক সংশোধন গুলির ফলে এখন থেকে আরও বেশি লাভবান হতে চলেছেন বিনিয়োগকারীরা। চলুন কীভাবে তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম কি?
Post Office SCSS Scheme বা সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস একাউন্ট হল ভারত সরকার অনুমোদিত একটি দারুণ জনপ্রিয় সেভিংস স্কিম। এর অধীনে একটি অ্যাকাউন্ট পোস্ট অফিস অথবা যে কোন কমার্শিয়াল ব্যাংক উভয় স্থানেই খোলা যেতে পারে। একজন ব্যক্তি যিনি 60 বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছেছেন বা যিনি 55 বছর বা তার বেশি কিন্তু 60 বছরের কম বয়সে পৌঁছেছেন এবং যিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বা অন্যথায় খোলার তারিখে তিনি এই অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্য।

ন্যূনতম 1 হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ 30 লাখ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এখানে একটি একক বা যৌথ অ্যাকাউন্ট উভয়েই খোলা যেতে পারে। SCSS বা সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে প্রতি বছর 8.2 শতাংশ সুদের হার অফার করে৷ প্রতি ত্রৈমাসিকে হার সংশোধিত হয়, এবং মূল্যস্ফীতি, বাজারের পরিস্থিতি ইত্যাদির মত বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করা হয়।

কি কি পরিবর্তন আনা হয়েছে?
সাম্প্রতিক সংশোধন অনুযায়ী সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম বা SCSS একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “একজন সরকারি কর্মচারীর পত্নীকে এই স্কিমের অধীনে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেওয়া হবে, যদি সরকারী কর্মচারী যার বয়স 50 বছর পূর্ণ হয়ে থাকে এবং কাজ করাকালীন অবস্থায় মারা যান।” রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় উভয় সরকারের অধীনস্থ কর্মীদের ক্ষেত্রেই এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

অল্প সময়েই টাকা ডবল! পোস্ট অফিসের এই দুর্দান্ত স্কিম সাড়া ফেলেছে সারা দেশে।

Post Office SCSS Scheme এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী তার অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে শুরু করে তিন মাসের মধ্যে এখন থেকে পোস্ট অফিসের এই সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস একাউন্ট চালু করতে পারেন। এই একই নিয়ম সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যিনি কাজ করাকালীন অবস্থায় মারা গেছেন। আগে এই সময়সীমা সর্বাধিক ছিল এক মাস পর্যন্ত।

আমরা জানি যে SCSS Scheme এ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করা যায়। তবে একজন ব্যক্তি যদি চান এই সময়সীমা তিনি ফর্ম ৪ এ আবেদন করে সর্বাধিক তিন বছরের জন্য বাড়াতে পারেন। নতুন নিয়মে এক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এই স্কিমের মেয়াদ তিন বছরের জন্য মাত্র একবারই বাড়ানো যেত। কিন্তু এখন থেকে তিন বছরের প্রতিটি ব্লকের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে এই মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।

Click Here

SCSS Scheme এর আগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি একাউন্টের মেয়াদপূর্তির পর যদি তার সময়সীমা বাড়ানো হতো, তাহলে সেখানে সঞ্চিত অর্থের ক্ষেত্রে পুনরায় নতুন হার নির্ধারণ করে সুদ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন থেকে মেয়াদ পূর্তির পরও সুদের হার সেটাই থাকবে যেটা প্রথম অর্থ বিনিয়োগ করার সময় প্রযোজ্য ছিল অথবা মেয়াদপূর্তির শেষ বছরটিতে ব্যক্তি যে হারে সুদ লাভ করেছেন।

পোস্ট অফিসের কোন স্কিমে টাকা রাখলে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন পাবেন, বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই জেনেনিন।

যদি Post Office SCSS Scheme এক্সটেনশনের তারিখ থেকে এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়, তাহলে আমানতের এক শতাংশের সমান পরিমাণ কেটে নেওয়া হবে এবং ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টধারককে দেওয়া হবে।
সুতরাং বৃদ্ধ বয়সে নিশ্চিন্তে কাটাতে পোস্ট অফিসের এই প্রকল্পে টাকা রাখার কথা চিন্তা করতে পারেন।
Written by Nabadip Saha.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button